ব্রাহ্মণপাড়ায় কুকুর-বিড়ালের কামড়ে-আঁচড়ে এক মাসে ২৬ জনের চিকিৎসা

লেখক: আতাউর রহমান
প্রকাশ: ২৪ minutes ago

Spread the love

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় কুকুর ও বিড়ালের কামড়-আঁচড়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত জুলাই মাসে এসব প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আহত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৬ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সময়মতো চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করায় তারা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গেল জুলাই মাসজুড়ে কুকুর ও বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়ে আহত ২৬ জন হাসপাতালে এসেছি চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন ক্ষতস্থানের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পুমকারা এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার ( ৪৬ ) বলেন, আমি গ্রামের রাস্তা ধরে বাড়ি ফিরছিলাম, হঠাৎ পেছন থেকে এসে একটি কুকুর আমাকে আক্রমণ করে। তার কামড়ে আমার ডান পায়ে ক্ষত হয়। পরে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নিই।
বিড়ালের আঁচড় খেয়ে আহত হয় ছয় বছরের শিশু আব্দুর রহমান। সে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর এলাকার আল মামুনের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, পাশের বাড়ি থেকে একটি বিড়াল প্রায় প্রতিদিনই আমাদের বাড়িতে আসে। আব্দুর রহমানও বিড়ালটির সঙ্গে মাঝেমধ্যে দুষ্টমি করতো। ওই বিড়ালটি হঠাৎ করে তার পায়ে আঁচড় দিয়ে নখ বসিয়ে দেয়। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ভ্যাকসিন ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরে আলম বলেন, উপজেলায় পথকুকুরের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। অনেক সময় দলবেঁধে রাস্তায় ঘোরাফেরা করে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন। এ ঘটনা এড়াতে বিশেষ করে শিশুদের অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, কুকুর বা বিড়ালের আঁচড় ও কামড়কে কখনোই অবহেলা করা যাবে না। কুকুর, বিড়াল, বানর, বেজি, শিয়াল, বাদুড়ের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষতস্থান প্রবাহমান পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে এসব প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়ে আহত রোগীদের বিনামূল্যে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সব ডোজ সম্পন্ন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তবে এ রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর এটি প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

  • ব্রাহ্মণপাড়া