বুড়িচংয়ের একমাত্র খেলার মাঠে নির্মাণসামগ্রীর হাট; বরাদ্দ থাকলেও থমকে আছে দেয়াল নির্মাণ

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

Spread the love

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদরে অবস্থিত আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি এখন প্রভাবশালী একটি চক্রের দখলে। মাঠজুড়ে প্রকাশ্যেই ইট, বালু ও পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী নিয়মিত খেলাধুলা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠটির একাংশ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর অন্য অংশে গড়ে উঠেছে গাড়ি চালানো শেখানোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। মাঠজুড়ে ভারী যানবাহন চলাচল ও নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ থাকায় এটি এখন কার্যত একটি বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, মাঠটির চারপাশে রয়েছে এরশাদ ডিগ্রি কলেজ, কালীনারায়ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বুড়িচং পাবলিক স্কুল ও আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। অদূরেই রয়েছে হাজী ফজর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাদ্রাসা। অন্তত দশটির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠে খেলাধুলা করতো। জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ, আন্তঃউপজেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও এখানে অনুষ্ঠিত হতো। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, “দিনের আলোতেই খেলার মাঠ দখল করে ব্যবসা চলছে। যারা বাধা দিতে চায়, তাদের ভয় দেখানো হয়। এই মাঠ বাঁচাতে কেউ মুখ খুললেই প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়তে হয়। তাই অনেকেই চুপ করে আছে।” শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ বলেন, “আমাদের খেলাধুলার জায়গা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মাঠে নামলেই ট্রাক আর ইটের স্তূপ চোখে পড়ে। খেলাধুলা করতে না পারায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি। মাঠ ছাড়া আমাদের আর কোনো জায়গা নেই।” এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দিনের পর দিন খেলার মাঠ দখল হয়ে থাকলেও প্রশাসনের নীরবতা দখলদারদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। তারা দ্রæত মাঠ দখলমুক্ত করে চারপাশে দেয়াল নির্মাণ ও খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি বেদখল হয়ে আছে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “খেলার মাঠটি রক্ষায় চারপাশে দেয়াল নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দ আনা হয়েছিল। ঠিকাদার কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে প্রকাশ্যে ভয়-ভীতি দেখায়। প্রাণনাশ ও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কিত হয়ে ঠিকাদার এলাকা ছেড়ে চলে যান। ফলে সরকারি অর্থ থাকলেও দেয়াল নির্মাণ সম্ভব হয়নি।” প্রধান শিক্ষক জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খেলার মাঠে নিয়মিত খেলাধুলারত শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করেছে। এর আগে কয়েক দফা দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ টানানো হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। দ্রæত সময়ের মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করে খেলার মাঠটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হবে।”

  • বুড়িচং