‘‘পেট না কেটে পিত্তথলির পাথর অপসারণ’’ ব্রাহ্মণপাড়া শিশু মাতৃ হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসার সাফল্য

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

Spread the love

ঢাকায় বা বড় কোনো শহরের হাসপাতালে নয়। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার শিশু মাতৃ হাসপাতালেই সম্পন্ন হয়েছে ল্যাপারোস্কোপিক (পেট না কেটে) অস্ত্রোপচারে পিত্তথলির পাথর অপসারণ। উপজেলার শিশু মাতৃ হাসপাতালের ল্যাপারোস্কপিক সার্জন ও ইউরোলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ শাহ কামাল, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. সিরাজুল ইসলাম ও তাঁদের সহকারী টিম গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে এ অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেন। উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের উন্নত সার্জারি প্রথমবার সম্পন্ন হওয়ায় ব্রাহ্মণপাড়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রশংসা করছেন হাসপাতালের এই সাফল্যের। জানা গেছে, উপজেলার চান্দলা গ্রামের গৃহবধূ বৃষ্টি আক্তার (২২) তীব্র পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পিত্তথলিতে পাথর শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে পেট না কেটে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে পাথর অপসারণ করা হয়। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। অপারেশনের পর বৃষ্টি আক্তারের স্বামী রুহুল আমিন বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এমন জটিল অপারেশনের জন্য ঢাকায় যেতে হবে। কিন্তু ব্রাহ্মণপাড়ায় অল্প খরচে, পেট না কেটে এই চিকিৎসা পেয়ে আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। ডা. শাহ কামাল বলেন, পিত্তথলিতে পাথর অনেক সময় নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে। অনেক রোগী গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে বিষয়টি অবহেলা করেন। তীব্র ব্যথা, হজমের সমস্যা বা বমি দেখা দিলে দ্রæত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বর্তমানে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি পিত্তথলির পাথরের সবচেয়ে নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি।’ উপজেলা পর্যায়ে প্রথমবারের মতো ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন করায় ডা. শাহ কামাল ও তাঁর টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া শিশু মাতৃ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়ভাবে এমন উন্নত সার্জারি সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলা জুড়ে চিকিৎসা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

  • স্টাফ রিপোর্টার