গাছ মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির সাথে সাথে অক্সিজেন নির্গমন করে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গাছের কোন বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ লাঘব করতে বেশি বেশি গাছ-পালা লাগানোর জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বর্ষা মৌসুমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে থাকে। রাষ্ট্রীয় ভাবেও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিশেষ করে ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগাতে বেশি উৎসাহিত করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হয়। বৃক্ষ মেলাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ঔষধি গাছের পাশাপাশি কাঠের গাছও দেখতে পাওয়া যায়। গাছ মানুষের বহুবিধ কাজে ব্যবহৃত হয়। গাছ থেকে মানুষ যেমন ফল-ফলাদি আহরণ করে তেমনি আবার তার কাঠ দিয়ে বিভিন্ন শৌখিন আসবাবপত্র তৈরী করে থাকে। তাছাড়া সবুজ গাছের একটা বড় গুণ হলো, বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে পানি ও সূর্যের আলোর সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তার নিজের খাদ্য ও অক্সিজেন তৈরি করে। একে বলা হয় সালোক সংশ্লেষণ। আশা করা হয় যে গাছের অক্সিজেন বাতাস পরিশুদ্ধ করবে। অন্যদিকে গাছ কিন্তু সব সময় শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডও ফিরিয়ে দিচ্ছে। এর পরিমাণ খুবই কম, তাই এতে খুব একটা বিপদের ভয় নেই। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে ডাচ জীববিজ্ঞানী ইয়ান ইনঙ্গেনহৌজ সবুজ গাছ ও বাতাসের মধ্যে এই দেওয়া-নেওয়ার ব্যাপারটি আবিষ্কার করেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এবং সবুজের সমারোহ বৃদ্ধির লক্ষে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ভাবে বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়ে থাকে। সড়কের গাছ লাগানোর ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে সড়কের মাটি কেটে যায় না। গাছগুলো বড় হয়ে যখন ডালপালা ছড়িয়ে দেয় তখন পথচারীরা ছায়া পায় এবং গরমের দাপট থেকে কিছুটা মুক্তি পায়। গাছগুলো পাখা হয়ে চলাচলকারীদের বাতাস করে। সারি সারি গাছগুলো সড়কের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করে। কিন্ত এই গাছগুলোই আবার মানুষের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠে। সঠিক তদারকির অভাবে যখন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অথবা বয়স বৃদ্ধির কারণে গাছগুলোর পাতাগুলো ঝড়ে গিয়ে ডালপালা মরতে শুরু করে কিংবা সম্পূর্ণগাছ মরে যায়, তখন গাছগুলোকে সঠিক প্রক্রিয়ায় কেটে না ফেললে বিপদের মাত্রা বাড়তে থাকে। যেকোন সময় দূর্ঘটনার আশংকা থাকে। কুমিল্লা-মীরপুর সড়কের দুই পাশে বুড়িচং ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার বিভিন্ন অংশে মরা গাছ দাঁড়িয়ে আছে। সড়কের দুই পাশে প্রাণহীন গাছগুলো বছরের পর বছর ধরে কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস হলেই মরা গাছের ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে রাস্তার উপর। মরা গাছগুলো ভেঙ্গে পড়ে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন, চালক, যাত্রী ও পথচারীদের চলাচলে বিঘœতা ঘটে। তাছাড়া মরা গাছগুলো ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মরা গাছ ভেঙ্গে বিদ্যুতের তারে পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সে ব্যাপারে কোন নজরদারি আছে বলে মনে হয় না। সোঁনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেক মোঃ সেলিম রেজা সৌরভ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সড়কের পাশে গাছ লাগানো যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি গাছগুলোর সঠিক তদারকি করার প্রয়োজন রয়েছে। আমি মনে করি সড়কের পাশের মরা গাছগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রæত কেটে ফেলা উচিত এবং নতুন করে বৃক্ষরোপন করা প্রয়োজন। যে বৃক্ষগুলো একদিকে সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে এবং পরবর্তীতে আমাদের সম্পদে রূপান্তিত হয় সেই ধরনে বৃক্ষরোপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দাবী জানাই। বুড়িচং উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুল আলম বলেন, উপজেলা সমন্বয় সভায় সড়কের দুই পাশের মরা গাছগুলোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।