বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ টি এম মিজানুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও আগামীর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। সাক্ষাৎকারে মিজানুর রহমান বলেন, এমপির কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন করা। বাস্তবায়ন করবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। তিনি বলেন, রাজনীতির সঙ্গে আমি ২০০২ সালে পরিপূর্ণ যুক্ত হই ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে। তখন আমি ভারেল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। এর আগেও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। পরবর্তী সময়ে, রাজনীতির পাশাপাশি শুরু করি রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা। কারণ, রাজনীতি কোনো ব্যবসা করার স্থান নয়। আর এই, রেষ্টুরেন্ট ব্যবসার ক্ষেত্রে আমি খাবারের পরিমাণের চাইতে খাবারের কোয়ালিটিকে সবসময় বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কারণ, খাবারের মান ঠিক না থাকলে কেউ সে খাবার খাবে না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি বিরোধী দল হয়ে আছে। আমার মতে, সরকারের ভুল ত্রুটি ধরার জন্য হলেও একটা শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। বর্তমানে বিএনপি সরকার পতনের দাবি তুলেছে। এটা শুধু বিএনপির দাবি নয়, এটা জনগণের দাবি। আমার বিশ্বাস আমরা আমাদের দাবি আদায় করতে পারবো। আমার মতে, রাজনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কর্মীরা। তাই আমি চেষ্টা করি সবসময় কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখতে। আমি যখন প্রথমবার উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলাম, তখন চেয়ারে বসতে পারিনি, আবার দ্বিতীয়বার যখন হয়েছিলাম তখন আমাকে শপথ নিতে দেয়া হয়নি। আমি বলবো, আমার কর্মীরা আমার জন্য নিবেদিত প্রাণ। আর, বুড়িচং বিএনপি সবসময় ঐক্যবদ্ধ। কুমিল্লা -৫ আসন একটি অনেক বড় আসন। এখানে এমপি নির্বাচন করার জন্য অনেক যোগ্য ব্যক্তি আছেন। আমি দলের প্রতি সবসময় কৃতজ্ঞ। নির্বাচনের আগে আমাদের প্রয়োজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কুমিল্লা-৫ এর জন্য আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে যাকে নমিনেশন দেওয়া হবে আমি তার জন্যই কাজ করে যাবো। আমি মনে করি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে পুরো বাংলাদেশে ধানের শীষের জয় হবে। দল কাকে নমিনেশন দিবে এটা দলই ভালো জানে। আমাদের দল থেকে কেউ এমপি হলে, আমরা আমাদের এলাকার সর্বোচ্চ উন্নয়ন করবো। দল ক্ষমতায় গেলে ইউনিয়ন সংখ্যা বাড়াতে হবে, পৌরসভার সংখ্যা বাড়াতে হবে, দুইটির জায়গায় প্রয়োজন হলে তিনটি পৌরসভা করতে হবে। একে বলা হয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ। সমস্ত ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে দিলে, যে যার দায়িত্ব পালন করবে। তাহলেই তো জনগণ সেবা পাবে। আমি বলবো, একজন এমপির কাজ হচ্ছে সংসদে আইন প্রণয়ন করা ও উপদেশ দেওয়া। এলাকায় কি হচ্ছে না হচ্ছে, বাজারে বাজারে কি হচ্ছে না হচ্ছে এগুলা দেখা এমপির কাজ নয়। এগুলো দেখবে, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ। আর দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আর আমি যদি এমপি হই, তাহলে এলাকার উন্নয়নের জন্য বিগত বছরগুলোতে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন যেসব ঘাটতি দেখেছি তা পূরণ করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবো। গত ১৫ বছরে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার যে উন্নয়ন হওয়ার কথা সে অনুযায়ী উন্নয়ন হয়নি। তবে, আমাদের এলাকার উন্নতির জন্য কৃষি বিপ্লব ঘটাতে হবে। আর মানবসম্পদকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে হবে। আবার, আমাদের এলাকা দিয়ে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক আছে তার আজও কোনো পরিবর্তন হয় নি। এ কারণেই প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা বাড়ছে। এ সড়কের উন্নয়ন করতে হবে। এছাড়াও, এলাকার উন্নয়ন করতে হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন, আমাদের কারিগরী শিক্ষাক্ষেত্র প্রয়োজন। আর আমার এলাকা যেহেতু ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা, তাই এখানে মাদকের বিস্তার প্রবল। এটা নিরসনে কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। তাই বলবো, আমাদের দল ক্ষমতায় আসতে হলে প্রয়োজন জনগণকে। কারণ, আমরা এখন জনগণের জন্য আন্দোলন করছি। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।