কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতিদিনই জ্বর, শরীর ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ও দুর্বলতাসহ ডেঙ্গুর নানা উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষ চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ৩৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী বাড়িতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ১১ জন ডেঙ্গু রোগী। এদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের মধ্যে কেউ কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আবার কেউ কেউ এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাদের একটি বড় অংশ জ্বর নিয়ে এবং অনেকেই জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গুর নানা উপসর্গ নিয়ে আসছেন। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে। পরীক্ষায় কারও ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে ডেঙ্গু নেগেটিভ আসছে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলেও উপসর্গ ডেঙ্গুর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাসপেক্টেড ডেঙ্গু ধরে নিয়েই উপসর্গ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী জেসমিন আক্তার জানান, তিনি কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতায় ভুগছিলেন। প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে হলেও আশপাশে ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করান। তবে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত নন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এখন ওষুধ খাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী তামিম ( ১৮ )। তিনি উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের তেঁতাভূমি এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, শরীরে জ্বর আসার পর স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খেয়েও উপকার পাইনি। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা ও বমিও হচ্ছিল। পরে হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তার পরীক্ষা দেয়। পরে পরীক্ষার রিপোর্টে আমার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮ বছর বয়সী শিশু মাহিন। সে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়ন থেকে এসেছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে বলেছেন। চিকিৎসকের ভাষ্য, শিগগিরই মাহিন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, চলতি মাসে ২৩ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া চলতি মাসে বহির্বিভাগ ও জরুরি এবং উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে নিয়মিত রোগী আসছেন। তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডা. হাসিবুর রেজা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে জ্বর হলে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ সময়টায় জ্বর হলে অবশ্যই অবহেলা করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। পাশাপাশি দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহারসহ মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।