“শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে” বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় ১২২টি সরকারি প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

Spread the love

জন্মের পর থেকে একটি শিশু প্রথমে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মা-বাবা ডাকতে শিখে। তারপর আস্তে আস্তে পরিবারের বাকি সদস্যদের চিনতে থাকে এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি আয়ত্ত করে। বয়স বাড়ার সাথে মক্তবে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে লেখা পড়ায় হাতে খড়ি শুরু হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো প্রতিটি শিশুর জীবন গঠণের গোড়াপত্তনের প্রথম ধাপ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা যেন পড়া লেখা থেকে ছিটকে না পড়ে; সে লক্ষে সরকার উপবৃত্তির ব্যবস্থা চালু করেছে। সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করতে কোন কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহুতল ভবণ নির্মাণ করা হচ্ছে এবং আধুনিক মানের ওয়াশবক্লের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্ত সমস্যা হলো গাড়ী আছে ড্রাইভার নেই। এই বিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার মানোন্নয়নের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে এক ঝাঁক সহকারী শিক্ষক থাকে। প্রধান শিক্ষক সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং সহকারী শিক্ষকরা তার নেতৃত্বে ও দিকনির্দেশনায় সকল কাজ সম্পাদন করেন। প্রধান শিক্ষক উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের পরামর্শক্রমে পাঠ পরিকল্পনা তৈরী করেন এবং সহকারী শিক্ষকরা তা বাস্তবায়ন করেন। যদি প্রধান শিক্ষকই না থাকে; তাহলে ঐ প্রতিষ্ঠাণের কি অবস্থা হয় এবং লেখাপড়ার মান কোথায় গিয়ে নামে? কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া দুই উপজেলায় ২৫৭ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২২ টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বুড়িচং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন বিভিন্ন গ্রামে ১৪৯ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ১৪৯ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬১ টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা ৮ ইউনিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন গ্রামে ১০৮ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এবং এর মধ্যে ৬১ টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বুড়িচং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফওজিয়া আক্তার বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব প্রদান করতে হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক দিয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শ্রেণীর কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটে। তারপরেও আমি এবং আমার সহকারী শিক্ষা অফিসারদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশা রাখি অচিরেই প্রধান শিক্ষককের শূন্য পদগুলো পুরন হয়ে যাবে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দা হালিমা পারভীন বলেন, ব্রাহ্মপাড়া উপজেলায় প্রায় অর্ধেক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককের পদ শূন্য রয়েছে। এই শূন্য পদে বর্তমানে সহকারী শিক্ষক চলতি দায়িত্ব পালন করছে। এতে শিক্ষার মানোন্নয়নে সমস্যা হচ্ছে। তারপরেও আমরা বিভিন্ন ক্লাস্টারের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষা অফিসারদের সহযোগীতায় শিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করছি।

  • বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া