কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাঠজুড়ে কৃষকের স্বপ্ন ছিল পাকা বোরোধান ঘরে তোলার। অনেক কৃষক ধান কাটাও শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত চার দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। কোথাও কাটা ধান পানিতে ভাসছে, কোথাও জমিতে পানি জমে থাকায় পাকা ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। আবার বাড়িতে তোলা ধানও শুকাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মাঠে পাকা ও আধাপাকা ধান হেলে পড়েছে। নিচু এলাকার বহু ধানক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এতে ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে দিনমজুর সংকট, অন্যদিকে আবহাওয়ার বৈরিতা—দুই সংকটে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
যেসব কৃষক ধান কেটে বাড়িতে তুলেছেন, তাঁরাও স্বস্তিতে নেই। বৃষ্টির কারণে ধান মাড়াই, ঝাড়াই, সিদ্ধ ও শুকানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সিদ্ধ ধান শুকাতে না পারায় পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার দুলালপুর দক্ষিণপাড়া বিল এলাকা থেকে ভেজা ধান মাথায় করে বাড়ি ফিরছিলেন কৃষক দুলাল মিয়া। তিনি বলেন, ‘চার দিন আগে দুই ছেলেকে নিয়ে ৩০ শতক জমির ধান কাটতে শুরু করি। অর্ধেক কাটার পর বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ি চলে আসি। পরদিন গিয়ে দেখি কাটা ধান পানিতে ভাসছে। এখন যেটুকু পারছি, ভেজা ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।’
একই এলাকার কৃষক শানু মিয়া বলেন, ‘এক একর জমির ধান কেটে বাড়িতে তুলেছি। সিদ্ধ করেছি, কিন্তু শুকাতে পারছি না। বাড়িতে ধান নষ্ট হচ্ছে, মাঠে খড় নষ্ট হচ্ছে। খুব কষ্টে আছি।’
কৃষাণী জেসমিন আক্তার বলেন, ‘৩৬ শতক জমির সিদ্ধ ধান টানা বৃষ্টিতে শুকাতে পারছি না। ধান পচে গন্ধ বের হচ্ছে। ফেলে দেওয়ার অবস্থা। ধানের দিকে তাকালে চোখে পানি আসে।’
বেজুরা গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এর মধ্যে দুই বিঘার ধান কেটে মাড়াই করলেও শুকাতে পারেননি। এছাড়া অন্যদিকে ঝড়ো হাওয়ায় এক বিঘা জমির ধান হেলে পড়ে পানিতে ডুবে গেছে।
কৃষকেরা জানান, উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। অনেকে ঋণ করে চাষাবাদ করেছেন। ভালো ফলনের আশায় ছিলেন সবাই। কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে এসে টানা বৃষ্টি তাঁদের বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘ধান নষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে আবহাওয়া বুঝে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলের আবহাওয়া অনুকূলে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর। তা ছাড়িয়ে ৮ হাজার ৫৮২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলে কৃষকেরা পুরোদমে ধান কাটতে পারবেন।