ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধের ঘাটতির কারণে সমাজে মাদকাসক্তির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল আলম বাবুল। শনিবার (৮ নভেম্বর) দৈনিক ব্রাহ্মণপাড়া-বুড়িচং সংবাদ-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কৌতূহল, পারিবারিক অশান্তি, বেকারত্ব, প্রেমে ব্যর্থতা, অসৎ সঙ্গ ও হতাশা তরুণদের মাদকাসক্ত হওয়ার মূল কারণ। অনেকেই জানে মাদক জীবনের জন্য ক্ষতিকর, তবুও নেশার ফাঁদে পড়ে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাবুল বলেন, তরুণ সমাজের বহু মেধাবী ও সম্ভাবনাময় প্রতিভা মাদকের নেশায় পড়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছে। ইসলামি শরিয়তে মাদকদ্রব্যকে চিরতরে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মাদক সেবনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নেশাজাতীয় সব বস্তুই হারাম। তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্তদের বিবেক-বুদ্ধি ও বিচারক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তারা মিথ্যা বলা, প্রতারণা, অপরাধে লিপ্ত হওয়াকে স্বাভাবিক মনে করে। মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। নেশাগ্রস্ত সন্তান থাকা পরিবারের দুর্দশা সীমাহীন। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি গুরুতর মহাপাপ, যা মানুষকে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ ইবাদত থেকে দূরে রাখে। কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বাবুল বলেন, আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মায়িদা’র ৯১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন- নিশ্চয়ই শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রæতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে চায়। বিএনপি নেতা বাবুলের মতে, মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যার প্রতিকার সম্ভব কেবল সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পিতা-মাতাদের উচিত সন্তানের জন্য সময় দেওয়া, ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া ও তাদের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনা। পরিবারই হতে পারে মাদক প্রতিরোধের প্রথম দুর্গ। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা দরকার। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহŸান জানাতে মসজিদের ইমাম ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ধর্মীয় নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় নিয়মিত সেমিনার ও সচেতনতামূলক ক্লাস চালু করতে হবে। মনিরুল আলম বাবুল মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, দরকার মানুষের বিবেক ও মূল্যবোধের জাগরণ। মাদকবিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার হতে হবে পরিবার। গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে- যেন মানুষ বুঝতে পারে, মাদক আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং আমরাই মাদককে নিয়ন্ত্রণ করব সমাজের কল্যাণ ও শান্তির জন্য।