“যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দূর্ভোগ” বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের পাশের ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Spread the love

কুমিল্লা জেলার সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যোগাযোগের সহজ মাধ্যম কুমিল্লা- বুড়িচং-মীরপুর সড়ক। তাছাড়া এই সড়কের মাধ্যমে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ চলাচল করে। বিশেষ করে স্কুল- কলেজগামী ছাত্রছাত্রী ও দুই উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং স্কুল কলেজের শিক্ষকরা প্রতিদিন তাদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করে। কুমিল্লা মীরপুর এম এ গণি সড়কটি বুড়িচং উপজেলা সদর বাজারের মাঝ দিয়ে চলে গেছে। যার ফলে সড়কটির দুই পাশে অসংখ্য দোকান- পাট গড়ে উঠেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে সড়কের দুই পাশের ফুটপাতগুলো বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা দখল করে নিয়েছে। এতে সড়কটিতে অবস্থিত বিভিন্ন বাজারের অংশতে বেশিরভাগ সময় যানজট লেগেই থাকে। বড় বড় দোকানের সামনের অংশের জায়গা বিভিন্ন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দখল করে আছে। যেদিক দিয়ে ফুটপাত হিসেবে সাধারন মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করে সেদিকে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় হাট-বাজারে আসা লোকজন এবং অন্যান্য কাজে আসা মানুষ ফুটপাতের পরিবর্তে মেইন সড়ক দিয়ে চলাচল শুরু করে। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে গাড়ীতে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। সড়কের দু-পাশের ফুটপাত ফল বিক্রেতা ও ভ্যানগাড়ীর দখলে রয়েছে। বিশেষ করে বুড়িচং উপজেলার কংশনগর বাজার, বুড়িচং সদর বাজার ও শংকুচাইল বাজার এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর, সাহেবাবাদ বাজার, চান্দলা বাজার ও ধান্যদৌল বাজারে সড়কের দুই পাশের ফুটপাত পথচারীদের পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। আবদুল জলিল নামে এক পথচারী বলেন, বুড়িচং বাজারে আসলে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। ফুটপাতে কেউ আমের ঝুড়ি, কেউ আবার মালটা, কমলা, ড্রাগনের ক্যারেট রেখে দখল করে আছে। তাই বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণপাড়া মুখি গাড়ীগুলোর যানজটতো লেগেই থাকে। মহিলা ও বাচ্চাদের নিয়ে বাজারটি পার হতে খুব কষ্ট হয়। ফুটপাতগুলো উম্মুক্ত থাকলে সাধারন মানুষের ভোগান্তি কম হতো। সিএনজি অটোরিকশা চালক তফাজ্জল হোসেন বলেন, এই সড়কে গাড়ী চালিয়ে কোন শান্তি নাই। একদিকে সড়ক ভাঙ্গা- চূড়া, অপর দিকে সড়কে অবস্থিত হাট- বাজারগুলোর ফুটপাত বিভিন্ন ফল ব্যবসায়ী ও ভ্যানগাড়ীগুলো ফুটপাতসহ মূল সড়ক দখল করে রেখেছে। যার ফলে কোন কোন সময় দূটি গাড়ী আসা- যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটমুক্ত হতে অনেক সময় নষ্ট হয়, এতে যাত্রীতাদের বিরক্তি প্রকাশ এবং আমাদের নিজেদের বিরক্ত লাগে। প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানাই যেন সড়কের দু-পাশের ফুটপাতগুলো দখল মুক্ত করে দেন। কুমিল্লাগামী এক সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী বলেন, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া বাজারটি পার হতে মাঝে মাঝে ১৫-২০ মিনিট সময় লেগে যায়। সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় একটি বড় গাড়ী আসলেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে আমাদের অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়। ফুটপাত দখলকারী ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা জীবন ও জীবিকার তাগিদে বড় বড় দোকানদারদের নিকট হতে দৈনিক ভাড়ায় সামনের অংশে ফল ও অন্যান্য মালমাল বিক্রয় করি। বুড়িচং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নব ঘোষিত বুড়িচং পৌরসভার প্রশাসক মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, আমরা দ্রæত আইনগত ব্যবস্থা নেবো। সাধারণ জনগণ পথচারীর কোনরকম সমস্যার সম্মুখীন হোক এটা আমরা চাই না। খুব দ্রæত ফুটপাত দখল মুক্ত করা হবে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান বলেন, ধান্যদৌল ও সাহেবাবাদ বাজার কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সড়কের উপর থেকে বাজারগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেলার জন্য এবং সহকারী কমিশনার ভূমিকে জায়গা দেখার জন্য বলা হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া