শয্যাশায়ী অসুস্থ মা’কে জয় সংবাদ জানাতে হাসপাতালে নবনির্বাচিত এমপি জসিম উদ্দিন

লেখক: মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

Spread the love

দীর্ঘ ২৩ মাস ধরে হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন মায়ের কানে নিজের বিজয়ের সংবাদ পৌঁছে দিতে ছুটে গেলেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ধানের শীষ প্রতীকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন জসিম।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে, কপালে চুমু খেয়ে বিজয়ের সংবাদ জানান জসিম উদ্দিন। জবাবে মা-ও ছেলের মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন। হৃদয়ছোঁয়া এ দৃশ্য মুহূর্তেই উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়। হাসপাতালজুড়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম মিজানুর রহমানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের ৮৫ বছর বয়সী মা আনোয়ারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। গত ২৩ মাস ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় অধিকাংশ সময়ই তাঁকে হাসপাতালের শয্যাতেই কাটাতে হয়েছে।
তবে অসুস্থতার মাঝেও ছেলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে ভোট দেওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেন আনোয়ারা বেগম। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সেই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া দারুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রে পৌঁছান তিনি। এ সময় তাঁর মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো ছিল। শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে পোলিং কর্মকর্তারা ব্যালট পেপার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যান। সেখানেই ব্যালটে সিল দিয়ে টিপসই দেন আনোয়ারা বেগম।
এই দৃশ্য দেখতে কেন্দ্রের আশপাশে উপস্থিত মানুষের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাঁর এই আগ্রহকে ভোটাধিকার চর্চার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘ ২৩ মাস ধরে আমার মা হাসপাতালের বিছানায়। অসুস্থতার মধ্যেও তিনি আমাকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। ভোট দিতে পেরে এবং আমার বিজয়ের সংবাদ শুনে তিনি খুবই আনন্দিত। আমি আমার মায়ের দোয়ায় ও কুমিল্লা-৫ এর জনমানুষের ভালবাসায় এমপি নির্বাচিত হয়েছি।
অসুস্থ শরীরেও ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং পরে ছেলের বিজয়ের সংবাদ শোনার এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এটি এক মায়ের অটল ইচ্ছাশক্তি, সন্তানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পালনের এক বিরল উদাহরণ।

  • ব্রাহ্মণপাড়া