“ভোগান্তিতে যানবাহনসহ সর্বস্তরের জনগণ” বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় সড়কের পাশে গৃহ নির্মাণ সামগ্রী

লেখক: স্টাফ রিপোটার
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Spread the love

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে বাড়ি নির্মাণ সামগ্রী বিক্রয় করায় যানবাহনসহ সাধারণ মানূষ চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুমিল্লা-বুড়িচং- মিরপুর সড়কসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের পাশে বাড়ি দোকানপাঠসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য সড়কের পাশে ইট, বালু, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখে। ফলে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং জনসাধারন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ বহুতল ভবন নির্মাণের ছাদের ঢালাই করতে যেয়ে রাস্তার পাশে ঢালাই মেশিন রেখে মিক্সারের কাজ করে। এতে করে জনগণের যাতায়াতে যানবাহনসহ দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে দেখা যায়। এসব কাজ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আইনি বিষয়কে তোয়াক্কা না করে নিজেকে ক্ষমতাবান মনে করে দিনের পর দিন জনদুর্ভোগ চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনগণের চলাচলের সড়কটিও। ভেঙ্গে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়ে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে। সড়কে চলাচলকারী শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের ভোগান্তি অনেক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। এলাকার সর্বস্তরের জনগণ মনে করেন, প্রশাসন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জনগণের দুর্ভোগ অনেকটা লাগব হবে। তাই প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন সকল শ্রেণী পেশার লোকজন। বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কুমিল্লা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আমিনুল হক সেলিম ভুঁইয়া বলেন, আমি প্রতিদিন কুমিল্লা- মীরপুর সড়কে চলাচল করি। সড়কের পাশে অনেকে নির্মাণ সামগ্রী বিক্রি করার জন্য মজুদ রাখার কারনে এবং মালামাল লোডিং- আন-লোডিং করতে গিয়ে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ জনগণ ভোগান্তির শিকার হয়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রী এবং কর্মজীবীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হয়। তাই স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করছি, দ্রæত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। ব্রাহ্মণপাড়ায় মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী কলেজসহ বহু স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বলেন, বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা যদি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির লাঘব হবে। সড়কের উপর মালামাল লোডিং আনলোডিং করার ফলে অনেক যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের পাশ থেকে নির্মাণ সামগ্রী বিক্রয় কেন্দ্রগুলো অন্য দিকে স্থানান্তর করলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে। বুড়িচং -ব্রাহ্মণপাড়া উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান ডক্টর এডভোকেট মোবারক হোসাইন বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সকলকে সচেতন হতে হবে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, রাস্তায় যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী রাখা প্রসঙ্গে দেশে পরিবেশ আইন এবং মহাসড়ক আইন কার্যকর হচ্ছে না, এতে জ জনগণের রাস্তায় চলাচল স্বাধীনতা নষ্ট হয় এবং বিশেষ করে পরিবহন ব্যবস্থাপনা অকার্যকর হচ্ছে। যত্রতত্র দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, মানুষ হিসেবে তার করণীয় কি অর্থাৎ তার কৃত কাজের মাধ্যমে যে অন্যের ক্ষতি হতে পারে এ বিষয়ে সচেতনতা নেই ।সেই জন্য আইনের জরুরি প্রয়োগ প্রয়োজন বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে এই কাজগুলো সম্পর্কে মানুষের সতর্কতা তৈরি করার জন্য আমাদের উপজেলা প্রশাসন এবং ইউনিয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে যেমন মাইকিং, রেলি, লিফলেট বিতরণ করা যেতে পারে।পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বিবেক কে যেন শানিত করতে পারে, নৈতিক মানদন্ডে মানুষের নিজের কর্মের দ্বারা অন্যের কি ক্ষতি হয় তা বোঝার সামর্থ তৈরি করতে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো, যুবক সমাজ যদি সচেতনতা মূলক কার্যক্রম হাতে নিয়ে নিজেরা সচেতন হয় এবং পরিবারগুলোকে সচেতন করে তাহলে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যারা এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত তাদের কাছে আইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে এবং প্রত্যেকটি এলাকায় নির্মাণ সামগ্রী রাখার প্রয়োজনীয় স্থানের ব্যবস্থা ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে মহাসড়কের পাশে নির্দিষ্ট এরিয়াতে শেড তৈরি করতে পারা। এই আইনের যে শাস্তি গুলো আছে তা মানুষকে জানিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর টহল ব্যবস্থা করে কার্যকরী ব্যবস্থা অর্থাৎ সাজা নিশ্চিত করতে হবে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, সড়কের পাশে নির্মাণ সামগ্রী রাখা থাকলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কবরো। ইতিপূর্বে তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করেছি।

  • বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া