কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে ‘রোজা ও ডায়াবেটিস: স্বাস্থ্য ঝুঁকি, সতর্কতা ও করণীয় শীর্ষক’ সেমিনার ও ‘আপনজন সম্মাননা’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ৬৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (সচেতনতা দিবস) উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রæয়ারি) জেলা সদরের কান্দিরপাড়ে একটি রেস্টুরেন্টে এর আয়োজন করা হয়। এতে ব্রাহ্মণপাড়া ডায়বেটিক সমিতির সভাপতি এডভোকেট আ.হ.ম তাইফুর আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিচালক (হোমিও ও দেশজ চিকিৎসা) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (এএমসি) এর লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. আবু জাহের। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রেজা মো. সারোয়ার আকবর, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আপনজন সম্মাননায় ভূষিত হন মাধবপুর আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু জাহের ফাউন্ডেশন কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ আবদুল কাইয়ুম। ময়নামতি মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. নজরুল ইসলাম শাহীনের সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও অনারারি কনসালটেন্ট ডা. মো. আতাউর রহমান জসীম। মূখ্য আলোচক ছিলেন ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মহিউদ্দিন, মেডিসিন ও লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইজাজুল হক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল লতিফ ও গাইনী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শামীমা আক্তার রেখা। এছাড়া কুমিল্লা বার্ডের যুগ্ম পরিচালক কাজী সোনিয়া রহমান, বিএমএ কুমিল্লার সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল আনোয়ার, কুমিল্লা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর বিদায়ী উপপরিচালক জেডএম মিজানুর রহমান, সিসিএন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক কবির আহমেদ, ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিস হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. বীথী, অধ্যক্ষ খলিল উদ্দিন আখন্দ, অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ রাখাল চন্দ্র শীল, ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ লাভলু, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া সেমিনারে চিকিৎসক, শিক্ষক, সুশীল, আইনজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে ডায়াবেটিস রোগীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়। রোজার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা তুলে ধরা হয়। রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের সঠিক সময়ে ইফতার করা এবং অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনি জাতীয় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। ভাজাপোড়া জিনিস যত কম খাওয়া যায়, ইফতারে বেশি খেজুর না খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়া, সেহরি শেষ হওয়ার আগ মুহুর্তে খাবার খেতে পারলে ভালো, জটিল শর্করা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার আহবান জানানো হয়। চিকিৎসকেরা ইসলামের রেফারেন্স টেনে জানান রোজায় ডায়াবেটিস মাপা যাবে-এতে করে রোজার কোন ক্ষতি হবেনা। গর্ভবতী নারীরা যাতে রোজা না রাখেন সে পরামর্শ প্রদান করেন। ইনসুলিন ব্যবহার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।