কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সুজনকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে আটক করে।
ডিবি পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণপাড়ার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং ভুয়া ডিজি প্রতিনিধির পরিচয়ে সুজন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া, গত জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে তিনি এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গত ২৯ মার্চ সকালে সুজন তার অনুসারী ও বহিরাগতদের নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখোলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে প্রধান শিক্ষিকা মোসা. হাসিনা ইসলামের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেন এবং লাথি মেরে ফেলে দেন।
ঘটনার পরদিন ৩০ মার্চ ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় সুজনসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
কুমিল্লা ডিবির ওসি শামসুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাগিচাগাঁও এলাকা থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।