বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া—এই দুই উপজেলা যুগ যুগ ধরে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে ভিন্ন মত, ভিন্ন পথ ও ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের মানুষও একে অপরের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থেকে বসবাস করেছেন। এ অঞ্চলে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতির যে অনন্য সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা আমাদের গর্ব, আমাদের ঐতিহ্য।
আমরা প্রশাসনের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই—এই শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়। কেউ অন্যায় বা অপরাধ করলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন মিথ্যা, কল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হয়ে হয়রানির সম্মুখীন না হন।
আমরা দুই উপজেলার মানুষ শান্তিপ্রিয়। কে কোন দল করেন, কোন মতাদর্শে বিশ্বাস করেন—তা কখনোই আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের অন্তরায় ছিল না। আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার সন্তান, আমরা একে অপরের আপনজন।
বুড়িচং নামটির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বলা হয়, চৈনিক শব্দ “বুদ্দীছিয়াং” থেকে “বুড়িচং” নামের উৎপত্তি। এটি ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কিংবদন্তি রয়েছে যে, চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এই অঞ্চলে এসেছিলেন। তাই বুড়িচং শুধু একটি জনপদের নাম নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক গর্বিত প্রতীক।
এই শান্তি ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য গড়ে তুলতে যাঁরা আজীবন কাজ করে গেছেন, তাঁদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী,আব্দুল মতিন খসরু ভাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ মোহাম্মদ ইউনুস ভাই,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রফেসর মোঃ মফিজুল ইসলাম স্যার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আমীর হোসেন ভাই, বর্তমান সংসদ সদস্য বন্ধুবর মোঃ জসীম উদ্দিন-সহ বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এই মাটির সকল গর্বিত সন্তানদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আসুন, সকল বিভেদ ভুলে, দল-মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে হাতে হাত রাখি। আমাদের প্রিয় বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়াকে আবারও শান্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এক অনন্য জনপদ হিসেবে গড়ে তুলি।
বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া একই মায়ের পেটের যমজ সন্তান।
স্লোগান:
“শান্তির বন্ধন, সম্প্রীতির অঙ্গীকার—বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া হোক ভালোবাসার এক পরিবার।”
“একসাথে থাকি, একসাথে চলি—শান্তির নীড় গড়ি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায়।”
আপনাদের মাটির সন্তান
আমি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক।
কবি ও লেখক,রাজনৈতিক বিশ্লেষক, পেশাজীবী নেতা।