কুমিল্লা জেলা শহরের নিকটবর্তী উপজেলা বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া। কুমিল্লা আর্দশ সদর উপজেলার শাসনগাছা থেকে মেজর গণি সড়কটি শুরু হয়ে বুড়িচং উপজেলা সদর হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শেষ সীমানা মীরপুর নামক স্থানে কুমিল্লা-সিলেট সড়কে সংযুক্ত হয়েছে। দুই উপজেলার প্রশাসনিক দপ্তরগুলো মেজর গণি সড়কের পাশেই অবস্থিত। তাই এই সড়কটি অন্যান্য সড়কের তুলনায় অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়ক। প্রতিদিন এ সড়কে হালকা ও ভারী কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। কুমিল্লা জেলা সদরে বিভিন্ন কাজে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ বেশি চলাচল করে এ সড়কে। তাছাড়া সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষ প্রতিদিন এই সড়কের মাধ্যমে চলাচল করে। প্রতিনিয়ত সড়কের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও সড়কের প্রস্থ বৃদ্ধি পায় নাই। তাছাড়া সড়কের উপর গড়ে উঠেছে অনেক হাট বাজার। সড়কের দুই পাশে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিত ভাবে দোকান পাট নির্মাণ এবং ভাসমান দোকান পাট স্থাপন করা ও সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড স্থাপন করায় যানজট লেগেই থাকে। ফলে এই সড়কটি এখন জনদূর্ভোগে পরিণত হয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে শুরু করে বুড়িচং উপজেলায় প্রবেশ পথে প্রথমে ভরাসার বাজারে যানজটের সুচনা হয়। ভরাসার বাজারে রয়েছে সড়কের দুই পাশে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটর চালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। দুই পাশে দুইটি করে গাড়ী দাঁড়িয়ে থাকলে মাঝখান দিয়ে দুই দিক থেকে দুইটি গাড়ী চলাচল করতে পারে না। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। আর যদি বড় কোন ধরনের গাড়ী প্রবেশ করে তখন তো দূর্ভোগের আর সীমা থাকে না। তারপর বুড়িচং বাজার। এই বাজারে রয়েছে উপজেলার সরকারী সকল দপ্তর। তাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফাঁড়ি সড়কগুলো চারদিক থেকে সংযোগ হয়েছে। বিভিন্ন ফাঁড়ি সড়কগুলো সংযোগ হওয়ায় মেজর গনি সড়কের দুই পাশেই গড়ে উঠেছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটর চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এ ছাড়া বুড়িচং বাজারটি উপজেলা সদর হওয়াতে সড়কের দুই পাশের দোকানগুলোর সামনে সড়ক দখল করে ছোট ছোট ফলের দোকান স্থাপন করার কারণে বিভিন্ন কাজে বাজারে আসা লোকজন গাড়ী চলাচল করার স্থান দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দূর্ঘটনার স্বীকার হয়। তাছাড়া ভ্যানগাড়ী সড়কের অনেক অংশ দখল করে বিভিন্ন ফল বিক্রয় করা হয়। এতে সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করার অন্যান্য গাড়ীগুলো স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারে না। বুড়িচং বাজারের দক্ষিণ অংশ থেকে শুরু করে উত্তর অংশে বাজারটি পার হতে কখনো ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এতে যাত্রীদের ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এর মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়ারও অনেক যাত্রী আছে। অপর দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সবচেয়ে পুরাতন সাহেবাবাদ বাজার। এ বাজারের উপর কোন স্ট্যান্ড না থাকলেও দুই পাশে রয়েছে বিভিন্ন ভাসমান দোকান। যা সড়কের অনেক অংশ দখল করে রাখে। এতে দুটি গাড়ী স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারে না, ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজারের সাথে রয়েছে বিভিন্ন এলাকার সংযোগ সড়ক। তাই বিভিন্ন এলাকার ছোট বড় গাড়ীগুলো এই বাজার হয়ে বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করে এবং সড়কের দুই পাশে ভ্যানে করে মালামাল বিক্রয় করার কারণে ও বিভিন্ন ফলের দোকান থাকায় জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে মুল সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়ে যাত্রীদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। বিগত সরকারের স্থানীয় এমপি আবু জাহের মেজর গণি সড়কের যানজট মুক্ত করার জন্য বুড়িচং সদর বাজার এলাকা এবং ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকায় দুটি বাইপাস সড়কের পরিকল্পনা করেছিলেন। এ সড়কে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী সচেতন মহল মনে করেন, জনদূর্ভোগ লাঘব করতে হলে অবশ্যই বাইপাস সড়ক নিমার্ণ করতে হবে অথবা দুই পাশে সড়কের প্রস্থতা বাড়িয়ে সড়কের উপর থেকে স্ট্যান্ডগুলো সড়িয়ে ভাসমান দোকানগুলো অন্যত্র সরাতে হবে। এব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।