২০২৪ সালের ২২ আগস্ট কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গোমতীর নদী ও ব্রাহ্মণপাড়ার সালদা নদীর প্রতিরক্ষা বাধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এই বন্যার কারণে ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকদের ফসলের মাঠ তলিয়ে যায়, যা ছিল স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বন্যা। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় কৃষকদের পাকা, আধাপাকা আউশ ধান, রূপা আমানের বীজতলা, আমন ধান এবং নানা ধরনের সবজি। এর ফলে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং তাদের শ্রমিত ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। তবে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকে কৃষকরা আবারও মাঠে নেমে শাকসবজি, টমেটো, বেগুন, শসা, আলু, মুলা এবং বোরো ধানের আবাদ শুরু করেছেন। তাদের শ্রম ও চেষ্টা এখন মাঠে ফলিত হচ্ছে, এবং সেখানে এখন এক সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। মাঠের বিস্তৃত জায়গায় সবুজ গালিচার মতো দৃশ্য এবং কৃষকদের নতুনভাবে আবাদ করা ফসল সবকিছু এক অন্যরকম সুন্দর হয়ে উঠেছে। এদিকে, কৃষি বিভাগ কৃষকদের কৃষি কাজে সহযোগিতা করতে নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। কৃষকদের কাছে এখন এই সবুজের সমারোহ এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়ে উঠেছে। তারা আশা করছেন, আগামীতে ভালো ফলনের মাধ্যমে তারা তাদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাঠে এখন সবুজের সমারোহ যেন কৃষকদের কাছে নতুন একটি জীবনের বার্তা নিয়ে এসেছে। এটি শুধু কৃষকদের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত, যা এলাকার কৃষি উৎপাদনে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বন্যার ক্ষতির পর তারা হতাশ হলেও এখন মাঠে নতুন করে সবুজ ফসল দেখে তাদের মনে নতুন আশা জেগেছে। তারা মনে করছেন, এই সবজি ও বোরো ধানের আবাদে তারা কিছুটা হলেও বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। কৃষকরা আরও জানান, এটি তাদের আত্মবিশ্বাসে বড় ভূমিকা রেখেছে এবং তারা আগের মতোই আবাদ করতে পারবে। সরেজমিনে উপজেলার দুলালপুর বিলে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন কৃষক বোরোধানের খেতে পরিচর্যা করছেন। এসময় কথা হলে কৃষক আলমগীর হোসেন, রাসেল মিয়া ও আক্তার হোসেন বলেন, “বন্যার ক্ষতির পর আমাদের কাজ শুরু করা খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু এখন মাঠে সবুজের সমারোহ দেখে আমরা মনে করি, ধীরে ধীরে আমরা আমাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠব। আমরা শাকসবজি এবং বোরো ধানের আবাদ করেছি, যা কিছুটা হলেও আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেবে।” ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ রানা বলেন, বন্যার পর কৃষকদের মাঠে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের আবাদে সহায়তা করার জন্য কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করেছি। তারা এখন নতুনভাবে আবাদ করে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও কমাতে সক্ষম হবে।