বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কুমিল্লার নজরদারীর অভাবে কুমিল্লা-মীরপুর মেজর আবদুল গনি সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভাড়া নৈরাজ্য। যাত্রী হয়রানী ও দূর্ভোগের অপর নাম কুমিল্লা-মীরপুর এম এ গনি সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ড্রাইভারদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। সকাল-বিকাল বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সকাল বেলায় কুমিল্লা শহরমুখী যাত্রী বেশি থাকে, তখন একমুখী যাত্রীর অজুহাতে বেশি ভাড়া আদায় করে চালকরা, আবার বিকাল বেলায় কুমিল্লা শহর থেকে ভরাসার, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও মীরপুরমুখী যাত্রী বেশি থাকে- তখনো একমুখী যাত্রী বেশি অজুহাত দেখিয়ে কুমিল্লা থেকে বেশি ভাড়া আদায় করে চালকরা। এভাবে সকাল- বিকাল বিভিন্ন অজুহাতে ড্রাইভাররা তাদের ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করে এবং প্রতিবাদ করলে হয়রানী ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। এক সময় ভরাসার বাজার, বুড়িচং বাজার, বারেশ্বর চৌমুহনী, ব্রাহ্মণপাড়া, মীরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ডাইভারদের কাছ থেকে জিবির নামে চাঁদা আদায় করা হতো। ড্রাইভাররা এই জিবির চাঁদার অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতো। পরবর্তীতে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসন যাত্রী হয়রানী বন্ধ করার লক্ষে সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। যার ফলে দুই উপজেলার বিভিন্ন স্থানের জিবির নামের চাঁদা তোলা বন্ধ হয়ে যায়। যে যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং হয়রানী বন্ধ করার জন্য সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে সেই যাত্রী হয়রানী এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এখনো বন্ধ হয় নাই। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ড্রাইভার জানান, প্রতিদিন জেলা পরিষদ কুমিল্লার আন্তঃ জেলা বাস টার্মিনাল শাসনগাছায় খাস আদায়ের রশিদের মাধ্যমে সকাল-বিকাল দুই বার ড্রাইভারদের নিকট থেকে ২০ টাকা করে ৪০টাকা আদায় করা হয়। যদিও খাস আদায় রশিদে উল্লেখ রয়েছে ১৫ টাকা। তাছাড়া টোকেনের নামে প্রতিমাসে ৫শত টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়া জিনিসপত্রের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গাড়ীর বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে মাঝে মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া চেয়ে নেই। এরশাদ মিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে মনে হয় এই সড়কটিই ব্যাতিক্রম। এখানে কোন নিয়ম কানুন নেই। যখন তখন ড্রাইভাররা তাদের ইচ্ছে মতো ভাড়া বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও শনিবার তাদের কাছে ঈদের রাত মনে হয়। চাকুরীজীবি দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিন অফিসে আসা যাওয়ার পথে ড্রাইভারদের কাছে কত রকমের হয়রানী হতে হয় তার কোন হিসাব নেই। তার একটা বিহিত হওয়া দরকার। এভাবে চলতে পারে না। এই সড়কে একটা নিয়ম কানুন থাকা দরকার। বুড়িচং উপজেলা সিএনজি ও অটোরিকশা চালক সমবায় সমিতির সভাপতি শহিদুল্লাহ বলেন, বুড়িচং থেকে কুমিল্লায় সিএনজি ভাড়া ৪০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রত্যেকটি জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার বলেন, উপজেলা পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসন সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য এখতিয়ার প্রাপ্ত নয়। যেহেতু সিএনজি অটোরিকশার রেজিষ্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রুট পারমিট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ ভাড়াও এই রকম কোন কারিগরি ক্যাপাসিটি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেই হওয়া উচিত। ইতোপূর্বে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা দেয়া হতো তাই টোল আদায়ের সুবিধার্থে একটি ভাড়ার চার্ট দেয়া হয়েছিলো। এখন সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা দেয়া হয় না। তাই নতুন করে কোন ভাড়ার চার্ট দেয়া হয়নি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কুমিল্লা অফিসের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি) মোঃ ফারুক আলম বলেন, আমি বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলাপ আলোচনা করবো। তাছাড়া ঢাকা শহরে কিলোমিটার অনুযায়ী সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ থাকলেও লোকাল এলাকার জন্য নির্ধারণ করা নেই। পর্যায়ক্রমে নির্ধারণ করা হবে।