“থানায় অভিযোগ” বুড়িচংয়ে বিভিন্ন স্ট্যান্ড থেকে জিবি নামক চাঁদা বন্ধ হলেও থেমে নেই চাঁদাবাজি

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ years ago

Spread the love

কুমিল্লা- ৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণাড়া) আসনের এমপি আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু জাহের কুমিল্লা মিরপুর সড়কসহ সকল সড়কের বিভিন্ন স্ট্যান্ডের ইজারা বন্ধ করে দেন। এতে করে জিবি নামক চাঁদা থেকে মুক্তি পায় সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, বিভিন্ন ট্রলি, মালামাল বহনকারী ট্রাক্টর ড্রাইবাররা। কিন্ত কয়েকদিন যেতে না যেতে মাসিক টোকেনের নামে শুরু হয় নতুন করে চাঁদাবাজি। কখনো থানা পুলিশের নামে, কখনো উপজেলা প্রশাসনের নামে আবার কখনো পূর্বের ইজারাদারদের নাম ব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্র চাঁদাবাজি শুরু করে। গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলা পরিষদ কর্তৃক ইজারাকৃত একটি স্টীকার ব্যবহার করে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা থেকে চাঁদাবাজি শুরু করে। বিষয়টি বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তারের নজরে আসলে তিনি তার অফিসিয়াল ফেইজবুক আইডি থেকে সকলের উদ্দেশ্য সর্তকবাণী প্রদান করেন। তিনি ফেইজবুক আইডিতে লিখেন-সম্মানীত বুড়িচংবাসী। বুড়িচং উপজেলা থেকে কোন প্রকার স্ট্যান্ড ইজারা প্রদান করা হয়নি। ছবিতে প্রর্দশিত স্টীকার ব্যবহার করে অবৈধ চাঁদাবাজির চেষ্টা চলছে। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোন প্রকার চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে তাকে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করুন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সর্তকবাণী প্রচার করার পর চক্রটি কিছু দিন চাঁদাবাজি বন্ধ রাখে। জুন মাসের শুরুতে আবার নতুন কৌশল নিয়ে কোন স্টীকার কিংবা টোকেন ছাড়া চাঁদাবাজি শুরু করে। চক্রটি এবার থানা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে প্রত্যেক ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা থেকে ১৫০-২০০ টাকা এবং নাম্বাবিহিন সিএনজি চালিত অটোরিক্সা থেকে ৪০০-৫০০ টাকা এবং নাম্বার থাকা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা থেকে ২০০/৩০০ টাকা করে চাঁদাবাজি শুরু করে। বিষয়টি সকলের দৃষ্টিগোচর হলে স্থানীয় কিছু ড্রাইভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি তাদের বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট পাঠান। বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসানাত খন্দকার তাদের কথা শুনে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এদিকে বুড়িচংয়ে চাঁদা না দেওয়ায় স্ট্যান্ড থেকে মারধর করে অটোরিকশা বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তপন মিয়া , দুলাল মিয়া , সাইফুল ইসলাম ও রাছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় অভিযোগ করেন সজিব নামের ব্যাটারী চালিত অটো ড্রাইভার সহ একাধিক ড্রাইভাররা। গত ৩ জুন সোমবার বিকেলে বুড়িচং দক্ষিণ বাজার অটোরিকশা স্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গতকাল বিকেলে বুড়িচং দক্ষিণ বাজারে অটোরিকশা স্ট্যান্ডে তপন নামের এক ড্রাইভার নগদ চাঁদা দাবি করে অটো চালক সজিবের কাছে। সে টাকা না দেওয়ায় তাকে গালমন্দ করে এবং এক পর্যায়ে তাকে মারধর করে। এসময় তপনের সাথে ছিলো দুলাল, সাইফুল ও রাছেল। সজিব সহ একাধিক ড্রাইভার টাকা না দেওয়ায় তারা তাদেরকে গাড়ি সহ স্ট্যান্ড থেকে বের করে দেয়। তাদেরকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেয় তপন। পরে বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নেয় সজিব সহ একাধিক ড্রাইভার। এবিষয়ে সজিব বলেন, আমি আমার গাড়িতে খাড়াতাইয়ার যাত্রী পুড়াচ্ছি। এসময় তপন, দুলাল, সাইফুল ও রাছেল এসে আমাদের কাছে নগদ চাঁদা চায়। তারা বলে গতকালকে আমরা থানায় গেছি তুরা যাছ নাই এখন টাকা দে নয়তো তুরা এ রোডে গাড়ি চালাতে পারবি না। আমরা টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাদেরকে মারধর করে স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি সহ আমাদেরকে বের করে দেয়। সারাদিন আমাদেরকে গাড়ি চালাতে দেয় নাই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত তপন মিয়াকে একাধিক বার ফোন করেও পাওয়া যায় নি। গত ৪ জুন সকালে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বুড়িচং বাজারে মানব বন্ধন করেছে ড্রাইভাররা। বুড়িচং উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ওবায়দুল হক লিটন বলেন, অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য আজ বুড়িচং বাজারে মানব বন্ধন করা হয়েছে। একটি অসাধু চক্র থানা প্রশাসনের নামে অবৈধ ভাবে চাঁদাবাজি করছে। থানা প্রশাসন বলেছে, যদি কেউ অবৈধ ভাবে চাঁদাবাজি করতে আসে। তাদেরকে আটক করে আমাদেরকে অবহিত করবেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খন্দকার বলেন, এ ঘটনায় একটা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

  • বুড়িচং