“কোটি কোটি টাকার সম্পদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান” ব্রাহ্মণপাড়ায় বিষ্ণু থেকে আবদুল গনি’র মানবেতর জীবন যাপন

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ years ago

Spread the love

হিন্দুধর্ম থেকে মুসলমান ধর্ম গ্রহন করা ওসমান গনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রচলিত হিন্দুর্ধমের রীতিনীতি ভেঙে দিয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহন করা কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের বিষ্ণু মুসলিম ধর্ম গ্রহন করে নাম রেখেছেন ওসমান গনি। দীর্ঘ ২৩ বছর যাবৎ মুসলমান ধর্মগ্রহন করা ওসমান গনির ৩ ছেলে নিয়ে সংসার। জীবন যুদ্ধে এক কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, যা এক কল্পনাকেও হার মানায়। উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি গ্রামে এক ভাড়া বাসায় বসবাস করে সত্তোর্ধ্ব ওসমান গনি। স্ত্রী মারা গেছেন দীর্ঘ বছর। তিন ছেলে নিয়ে সংসার জীবন তার। ২০০০ সালে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয় সে। ওসমান গনি ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া ওশান হাই স্কুলে পরিচ্ছন্ন কর্মীর কাজ করে। পাশাপাশি বাড়ী বাড়ী ঘুরে সেপ্টিক টাংকি পরিস্কারের কাজ করে। যা রোজগার করে তা অত্যন্ত অপ্রতুল। সন্তানদের ভরণপোষণ, লেখাপড়া চালাতে তার ভীষন কষ্ট হচ্ছে। তার দাদা ছিলেন প্রয়াত প্রবাদ ঘোষ। বর্তমানে ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের যে জায়গাটি ওই জায়গার মালিক ছিলেন তিনি। স্কুলের জন্য এ বিশাল জায়গাটি তিনি দান করেছিলেন। যার বর্তমান মূল্য কয়েক কোটি টাকা। আব্দুল গণির যদি সেখান থেকে ৫ শতক জায়গা নিজের নামে দাদার কাছ থেকে লিখে নিতেন, তাহলে সে আজকে কোটি টাকার মালিক থাকতো। কিন্তু সে তা না করে দাদাকে সহযোগিতা করেছেন স্কুলে জায়গাটি দান করে দেওয়ার জন্য। ওসমান গনি অনেকটা আক্ষেপ করে বলেন, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ধর্মগ্রহন করেছি। সমাজের বিত্তবানরা আমার কোন খোঁজখবর রাখেনি। এখন বয়স হয়েছে। কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। সরকারিভাবে যদি স্থায়ীভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যেতো হয়তো বাকী জীবনটুকু ভালোভাবে সন্তানগুলো নিয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম। এ ব্যাপারে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি আমার সাধ্যমত আব্দুল গনিকে সাহায্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ, বস্র, খাদ্যসামগ্রী তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। তবে সরকারিভাবে তাকে সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করার জন্য আমি স্থানীয় এমপি মহোদয়, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়, এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করছি।

  • ব্রাহ্মণপাড়া