ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক, ভাড়া নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে-সড়কমন্ত্রী

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ ঘন্টা আগে

Spread the love

সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, এবারের ঈদযাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়কভাবে চলছে এবং নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা বাড়ি ফিরতে পারছেন। কোথাও কোথাও ধীরগতি থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, যাত্রীরা সন্তোষজনকভাবে ভ্রমণ করছেন। আমরা সারাক্ষণ মনিটরিং করছি। বিশেষ করে যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় কিছু ধীরগতি আছে। সাতটি লেন থেকে গাড়ি এসে যখন দুই লেনে যাচ্ছে, তখন কিছুটা ধীরগতি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সেখানে ব্যবস্থাপনা ঠিক আছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেন্টার এবং বিআরটিএর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাস টার্মিনালে এসে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেও তারা সন্তোষজনক সাড়া পেয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, এখানে এসে দেখলাম যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিচ্ছেন। ভাড়াও ঠিক আছে। বাসে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও বলছেন নির্ধারিত ভাড়াতেই যাচ্ছেন।

ঈদযাত্রাকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেড় কোটি মানুষ দু-তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়বে। পাশাপাশি প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু পরিবহন করতে হবে। যাত্রী ও পশুবাহী পরিবহনের এই বিশাল চাপ সামাল দিতে পরিবহন খাতের শতভাগ সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ঈদের সুযোগ নিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ডের বাইরে কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ এসেছে। যখন পরিবহনে সংকট থাকে, তখন কিছু মানুষ বেশি টাকা গুনে হলেও যেতে চায়, আর কিছু অসাধু ব্যক্তি সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু যেখানে অভিযোগ পাচ্ছি, সেখানে জরিমানা ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেন অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া না হয়, সেজন্য কাউন্টার ও বাসস্ট্যান্ডে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। এই প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

এসময় ঈদযাত্রায় রেল ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। নারীদের জন্য বিশেষ কোচ বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এরই মধ্যে কয়েকটি ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ কামরা যুক্ত করা হয়েছে। সব ট্রেনে এখনই সম্ভব হয়নি। কারণ, আগেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে ৫১টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের কয়েকটি ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ চালু করা হয়েছে।

তবে ঈদের পর পর্যায়ক্রমে আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, দুটি ট্রেন হুইল স্লিপ করায় কিছুটা দেরি হয়েছিল। তবে সেটি পরে সমন্বয় করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় হয়নি।

ট্রেনে টিকিট জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি টিকিটের ছবি একাধিক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে একই টিকিট দেখিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছে কেউ কেউ। একজন একটি টিকিট কেটে মোবাইলে পাঁচজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। পাঁচজনই গিয়ে বলছে ‘এটাই আমার টিকিট’। এতে প্রকৃত যাত্রী শনাক্ত করতে সময় লাগে এবং ট্রেন ছাড়তেও দেরি হয়।

তিনি যাত্রীদেরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যবস্থাপনার কোথায় ত্রুটি আছে সেটা বলুন, আমরা ঠিক করবো। তবে যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। সবাই সহযোগিতা করলে ব্যবস্থাপনা আরও ভালো হবে।

এসময় সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: জাগো নিউজ২৪