কুমিল্লা মীরপুর সড়কের বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া গাজীপুরে খাড়াতাইয়া ফজিল মাদ্রাসা ও খাড়াতাইয়া পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় সরকারী খাসভূমি গাজীপুর গ্রামের সাবেক দাগ নং ২৭৪,২৭৫,২৭৮ হালে ৯৫৮ এবং ৯৫৯ দাগের ভূমি ও খাল ভরাট করে পরিবেশ দুষণকারী অটোরাইস মিল স্থাপন করায় এলাকাবাসীর পক্ষে মোঃ জাকির হোসেন খন্দকার ও কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রশিদ ও অভিভাবকদের পক্ষে মাওলানা মোঃ মাহফুজুর রহমান ভুইয়া পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্র বাতিল করে অটোরাইস মিল স্থাপন বন্ধ করার জন্য আবেদন করেন এবং সরকারী খাস ভূমি উদ্ধারের জন্য গাজীপুর গ্রামের রহমত আলী ২০২০ইং সালের ১৩ আগষ্ট বুড়িচং উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির নিকট একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের তৎকালীন উপপরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি গত ২০২০ইং সালের ২২ নভেম্বর ২২.০২.১৯০০.২০৮.৭১.৮৫৫.২০-৯৭৮ নং স্বারকের মাধ্যমে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের ছাড়পত্র বিষয়ক কমিটির ২০২০ইং সালের ৪ নভেম্বর ২২০তম সভার ৫নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২০ইং সালের ১৩ ফেব্রæয়ারী পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের জারিকৃত অবস্থানগত ছাড়পত্র নং-২০-৩৭০৫৯ বাতিল করা হয়। তাছাড়ার রাইচ মিলটির যাবতীয় কার্যক্রম ব্ণদ ও নির্মানাধীন অবকাঠামো ১৫ দিনের মধ্যে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। এই নির্দেশনার দীর্ঘ ২ বছর ৬ মাস অতিবাহিত হলেও অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলার কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করায় অর্থ্যাৎ আমান্য করায় গত ১২ জুলাই ২২.০২.১৯০০.২০৮.৬০.০২৩.১৭-৮৪৮ নং স্বারকের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন,১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৪(৩) এবং ১৫(১) টেবিলের ক্রমিক-১ অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধে কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না তার জবাব চেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিলা অঞ্চলের রিসার্চ অফিসার ও অভিযোগ নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তা মোঃ রুনায়েত আমিন রেজা তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নোটিশ প্রদান করেন।এলাকাবাসীর দাবী পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিবেশ ছাড়পত্র বাতিল করার পর অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি রহস্যজনক। তাদের দাবী অতিদ্রæত পরিবেশ বিনষ্টকারী এবং সরকারী খাসজমি উপর স্থাপিত মেসার্স জাহানারা অটো রাইস মিলের অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলা প্রয়োজন। অন্যথায় আবারোও তারা আইনের বিভিন্ন ফাঁক ফোকড়ের মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়ে আবাসিক এলাকায় শিল্প-কারখানা স্থাপনের পায়তারা করবে।এই বিষয়ে অভিযোগকারী মাওলানা মাহফুজুর রহমান ভুইয়া বলেন, সরকারী খাস জমি ও খাল ভরাট করে অটো মেইলটি স্থাপন করার ফলে পানি নিঃষ্কাশন হচ্ছে না। তাছাড়া এখানে একটি ফাজিল মাদ্রাসা, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অটোমিলটি চালু হলে পড়ালেখায় বিঘœতা ঘটবে এবং আবাসিক এলাকায় কোন প্রকার শিল্প কারখানা স্থাপনের পরিবেশ আইন অনুযায়ী কোন বিধান নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর সরেজমিন তদন্ত করে তাদের রাইস মিলের ছাড়পত্র বাতিল করে এবং অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিলেও দীর্ঘ ২ বছর ৬মাসে তার কোন বাস্তবায়ন লক্ষ্য করতে পারছি না। এলাকাবাসীদের সহায়তায় অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। খাড়াতাইয়া গ্রামের সমাজসেবক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, এই অটোরাইস মিলটির কার্যক্রম চালু হলে এলাকাবাসীর অনেক ক্ষতি হবে। তা ছাড়া জাহানারা অটো রাইস মিলটির অবকাঠামো স্থাপনের কারণে কয়েকশত বছরের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় এবং পানি নিঃস্কাশনের খালটি ভরাট করে নালায় রূপান্তর করায় পানি নিঃষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে দুঃখের বিষয় পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক জানারা অটো রাইস মেইলে পরিবেশ সনদপত্র বাতিল করে দেয় এবং অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার পরেও রহস্যজনক ভাবে অবকাঠামো আজ ভাঙ্গা হয়নি। অতিদ্রæত পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দাবী জানাই।মেসার্স জাহানারা অটো রাইস মেইলে মালিক মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর আমাদের ছাড়পত্র বাতিল করে দিয়েছে। তাই আমরা অটো রাইস মেইলের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি এবং বর্তমানে গাড়ী রাখার গ্যারেজ করেছি এবং কমিউনিটি সেন্টার করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দিচ্ছি। আর এস খতিয়ানে আমাদের জমির মধ্যে দিয়ে একটি খাল ছিল তা আমাদের জানা ছিল না। বর্তমানে বিএস খতিয়ানে কোন খালের নেই। তবু আমাদের নিজস্ব খরিদকৃত জমির উপর দিয়ে খালটি চলমান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালক মুছাব্বির হোসাইন মোঃ রাজিব বলেন, আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেছি। তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে রেখেছে। এই পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগও দেয় নাই। আমরা তাদের অটোরাইস মিলের কার্যক্রম বন্ধ করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। তারা এখানে আর কোনদিন কোন পরিবেশ বিরোধী কারখানা স্থাপন করতে পারবে না। অবকাঠামো ভাঙ্গার মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেই এবং অর্থবরাদ্ধ নেই।