ফেসবুকে ফেক আইডি ব্যবহার করে ছবি, অশ্লীল পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট এবং কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করার অপরাধে এক কলেজ শিক্ষককে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে সিআইডি পুলিশ।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বড়ধুশিয়া আডিপাড়া “সুলতান মার্কেট” নামে একটি ফেক আইডির বিরুদ্ধে গত বছর ডিসেম্বরের ১০ তারিখ রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন এক ভুক্তভোগী।
এ মামলার তদন্তে নামে পুলিশের বিশেষ শাখা সিআইডি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল কুমিল্লা নিজ বাসা থেকে শিদলাই আমীর হোসেন জোবেদা ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক মোঃ নাজমুল হুদা এবং বড়ধুশিয়া বাজার থেকে মোঃ ইদ্রিস মিয়াসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডি সূত্র জানায়, আটককৃত কলেজ শিক্ষক নাজমুল হুদার কাছ থেকে ৩টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ডিভাইস যাচাই-বাছাই করে তার মোবাইলে অসংখ্য ফেইক ফেসবুক আইডি এবং পর্নোগ্রাফি ভিডিও পাওয়া যায়। অপরদিকে, গ্রেফতারের পর মোঃ ইদ্রিস মিয়াকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন কলেজ শিক্ষক নাজমুল হুদাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২১ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক দিদারুল আলমের আদালতে নাজমুল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০২১ সাল থেকে তিনি ফেইসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে স্বনামধন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এবং পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সিআইডির তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত নাজমুল হুদার মোবাইলে প্রায় ২৪টি ফেক আইডির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব আইডি ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করতেন এমন অভিযোগও রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত মোঃ নাজমুল হুদার পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিদলাই আমীর হোসেন জোবেদা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি বর্তমানে প্রশিক্ষণে আছি। বিষয়টি কলেজ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কলেজে যেয়ে সভাপতি মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করব। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে সিআইডির সাইবার টিম এসে আমাদের সহযোগিতায় বড়ধুশিয়া এলাকা থেকে একজনকে আটক করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমাদেরকে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত আছি। একজন শিক্ষক এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে বিষয়টি দুঃখজনক। আইনি প্রক্রিয়ার অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।