বুড়িচং উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বেহাল দশা

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

Spread the love

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। কিন্ত এই স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে হয়বানীর শিকার বেশি হতে হয়। সব কিছুর বিনিময়ে মানুষ নিজের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে চায় এবং সুস্থ থাকতে চায়। গ্রামীণ ও তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একটি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এই কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে গর্ভবতি মা ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং অন্যান্য রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। বুড়িচং উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। তবে জনবল সংকট আর সঠিক তদারকির অভাবে গ্রামের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার না থাকায় প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেবা গ্রহিতারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে সরকারী ভাবে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য উপজেলা পরিষদের ফান্ড হতে ৫ লক্ষ টাকার ওষুধ কিনে দেওয়া হয়েছে। কিন্ত অনেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রে রোগী দেখার মতো উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নেই। ঐ কেন্দ্রগুলো পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দ্বারা পরিচালিত হয়। ফলে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রদান করা ওষুধগুলোর সঠিক ব্যবহার হবে না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ভারেল্লা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র,ষোলনল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার না থাকায় শুধু পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়া প্রত্যেকটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা আবাসিক ভাবে অবস্থান থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগই কেন্দ্রের বাহিরে বাসাবাড়িতে ভাড়া থাকেন। এতে কেন্দ্রগুলো নিরাপত্তাহীন থাকে এবং মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিনত হয়। আয়া ও পিয়নরা সঠিক ভাবে তাদের কাজ না করায় অনেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অবস্থা মশা মাছির প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরেজমিন ষোলনল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, খাদিজা বেগম নামে একজন আয়া রয়েছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ছুটিতে আছেন। পিয়ন নাস্তা খেতে গেছে এবং উপসহকারী মেডিকেল অফিসার নেই। কেন্দ্রের বাউন্ডারি ওয়ালের ভেতরে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা থাকার কোয়াটারে স্থানীয় ছবির হোসেন নামের এক লোক পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। এই বিষয়ে ছবির হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে এই কোয়াটারে বসবাস করছেন। এখানে তিনি থাকার কারণে চোর ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বন্ধ হয়েছে। ষোলনল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহনাজ বেগম বলেন, ছবির হোসেন এর জায়গা জমি না থাকায় আমাদের পূর্বের উপজেলা কর্মকর্তা রোকসানা খানম মুন্নি এখানে বসবাস করার জন্য মৌখিক ভাবে অনুমতি দিয়েছেন। আর বর্তমানে কোয়াটারটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিষ্কার পরিছন্নতার বিষয়ে তিনি বলেন, পিয়ন আবুল হোসেন কোন কথা শুনতে চায় না। তার বিষয়ে উধ্বর্তন কর্মকর্তার নিকট লিখবো। মা ও শিশু মেডিকেল অফিসার ডাক্তার হেদায়েত বলেন, ষোলনল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কোয়াটারের বসবাসরত বহিরাগত লোকটিকে বাহির করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা বিধান দত্ত রুদ্র বলেন, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যে সকল কেন্দ্রে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার নেই, সেগুলোতে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেবা প্রদান করছে। মূলত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার সাধারণ রোগীগুলো দেখেন এবং গর্ভবতি মা ও শিশুদের দেখেন পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা।

  • বুড়িচং