রাসেদুল, শাহেদুল, সিরাজুল ও শহিদুল চার ভাই। বড় দুই ভাই আলাদা জায়গায় থাকলেও সিরাজুল ও শহিদুল একসঙ্গে ভিল্লা এলাকায় বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার কথা ছিল ছোট দুই ভাইয়ের। শুক্রবার রাতেই ছিল তাদের ফ্লাইট।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে চার ভাই একত্র হয়ে বারকা ড্রাগন মার্টে কেনাকাটা করতে যান। কেনাকাটা শেষে রাত ৮টার দিকে ছোট দুই ভাইয়ের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। ফেরার পথে হঠাৎ তারা অসুস্থ বোধ করেন। এ সময় তারা পারভেজ নামের এক বন্ধুকে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বলেন, আমরা খুব অসুস্থ।
পারভেজ জানান, প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি তিনি। প্রায় ১৫ মিনিট পর ফোন করলে আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, অসুস্থ বোধ করার পর তারা আল মুলাদ্দা এলাকার রায়ান পলি ক্লিনিকের পাশে গাড়ি থামান। কিন্তু তখন গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো শক্তিও তাদের ছিল না। সেখানেই চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ বন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকলেও বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। পরে দুই বাংলাদেশি ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে গিয়ে গাড়িটি দীর্ঘ সময় একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। মোবাইলের আলো ফেলে তারা দেখতে পান, গাড়ির ভেতর চারজন ব্যক্তি নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তারাই পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের আইডি কার্ডের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে স্পন্সরদের বিষয়টি জানায়। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হয়। বর্তমানে চার ভাইয়ের মরদেহ মাস্কাট সামরিক হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
নুরুল ইসলাম নামে তাদের এক চাচাতো ভাই, যিনি ওমানেই বসবাস করেন, তিনি জানান রাসেদুলের দুই সন্তান। সাহেদ সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। দেশে থাকা আরেক ভাইয়ের বিয়ে কেন্দ্র করেই ছোট দুই ভাই দেশে ফিরছিলেন।
তাদের বাবা আবদুল কুদ্দুস প্রায় ১৫ বছর আগে মারা গেছেন। বাড়িতে রয়েছেন তাদের বৃদ্ধ মা।
তারা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজা পাড়ার বাসিন্দা। তাদের মৃত্যু বিষক্রিয়ায় হতে পারে বলে সন্দেহ করা হলেও সঠিক কারণ এখনো জানায়নি পুলিশ প্রশাসন।