“সরকার দলীয় হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন” “প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে থাকবে না দলীয় কোন প্রকার বিধি নিষেধ”

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

Spread the love

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সরকারী দলের পক্ষ থেকে কোন ধরনের বিধি নিষেধ থাকবে না প্রার্থীদের ক্ষেত্রে। উম্মুক্ত ভাবে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ এই বছর দলীয় প্রার্থী দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। সেই সাথে প্রার্থী হওয়া ও প্রার্থীর কর্মী সমর্থক হওয়াতে হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকবে। ফলে নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দলীয় তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। দেশের মোট ৪৯৫টি উপজেলায় চার ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট আগামী ৮ মে অনুষ্ঠিত হবে। কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলা ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে ৩য় ধাপে ২৫ মে অনুষ্ঠিত হবে। গত ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশণ ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল ঘোষণা করার পর সরকারী দল আওয়ামীলীগের দলীয় তৎপরতা তেমন একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে দেখা যায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আগামীতে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে দলের প্রতীক ব্যবহার না করার এবং দলীয়ভাবে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামীলীগ। শুধু তাই নয় পরোক্ষভাবেও কোন প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে না বলেও দলটির নীতি নির্ধারকরা জানান। দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন হওয়ার আগে এসব নির্বাচন যখন নির্দলীয় ছিল তখনো প্রত্যেক জায়গায় অঘোষিতভাবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী থাকতো। বিভিন্ন ভাবে যাচাই বাছাই করে প্রার্থী ঠিক করা হতো ও দলের নেতাকর্মীদেরকে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করা হতো। কিন্ত এ নির্বাচনে পরোক্ষভাবে কোন প্রার্থীকে সমর্থন বা কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা না করার ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামীলীগের দলীয় কোন প্রকার বিধি নিষিধ থাকবে না। উম্মুক্ত ভাবে নেতা কর্মীরা তাদের নিজস্ব পছন্দনীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারবে। এতে নির্বাচন উৎসবমুখর হবে বলে সচেতনমহল মনে করেন। ক্ষমতাসিন সরকারী হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকলে। সাধারন ভোটাররাও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে বলে মনে করে সাধারণ ভোটাররা। ভোটাররা মনে করে দলীয় প্রভাব মুক্ত থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠ ও সু-শৃঙ্খল হয়। আমরাও ভোট কেন্দ্রে যেতে কোন প্রকার ভয় ভীতি থাকে না। যদি দলীয় প্রার্থী থাকে তখন ভোটের মাঠের চিত্র অন্যরকম হয়ে যায়। সাধারণ ভোটারদের মনে আতংক বিরাজ করে। তাই অনেক ভোটার ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে চায় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, এবারের উপজেলা নির্বাচনে আমাদের দলের যে কেউ অংশ গ্রহণ করতে চাইলে করতে পারবে। দলীয় প্রার্থী থাকবে না এটা তো আগেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করার আইন হওয়ার আগে আমরা দল থেকে প্রার্থী সমর্থন দিয়েছি কিন্তু এবার সেটাও দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এ উপজেলা নির্বাচনে দলের মধ্য থেকে একাধিক প্রার্থী হতে পারে, হবে, কোনো বাধা নেই। নির্বাচনে যেমন প্রতিদ্ব›িদ্বতা থাকে এ নির্বাচনেও সেভাবেই প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে। যার জনপ্রিয়তা বেশি সেই জিতে আসবে।

  • বুড়িচং
  • ব্রাহ্মণপাড়া