কুমিল্লার গোমতী নদীতে মাছ ধরার উৎসব

লেখক:
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার গোমতী নদীতে মাছ ধরার উৎসব হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার টিক্কারচর এলাকায় মাছ ধরার এই উৎসবে যোগ দেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষজন।
ভোর থেকেই টিক্কারচরে পলো, ছিটাজাল, মই জালসহ মাছ ধরার নানা সরঞ্জাম নিয়ে মানুষজন হাজির হন গোমতী নদীর পাড়ে। এরপর তারা একত্রিত হয়ে মাছ শিকারে নামেন। শিকারিদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা।
উৎসবে যোগ দেওয়া মানুষজন রুই, কাতল ও কার্প জাতীয় মাছ ছাড়াও, বোয়াল, আইড়, শোলসহ দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ শিকার করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর আমরা মাছ ধরা উৎসবের অপেক্ষায় থাকি। প্রথমে উৎসবের দিন নির্ধারণ করা হয়। পরে হাট-বাজারে ঘোষণা করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত দিনে সবাই ওই চরে গিয়ে মাছ ধরার উৎসবে হাজির হন। বরাবরের মতো আজও সবাই মাছ ধরার উৎসবে সামিল হয়েছে।কুমিল্লার গোমতী নদীতে মাছ ধরার উৎসব
মাছ ধরতে আসা হাসান আলী বলেন, আমি প্রতি বছর বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরতে যাই। এবার টিক্কারচরে মাছ ধরতে এসেছি। একটি বড় রুইসহ একাধিক মাছ শিকার করেছি। সবাই মিলে মাছ ধরার মধ্যে আলাদা আনন্দ আছে।
টিক্কারচর এলাকার মাছ শিকারি মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার পূর্বপুরুষরা এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন। আমরাও নিচ্ছি। সবাই মিলে মাছ ধরার মাঝে একটা অন্যরকম আনন্দ আছে। কয়েকটি বড় মাছ ধরতে পেরেছি। অনেকে আমার চেয়ে আরও বেশি মাছ শিকার করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক আহসানুল কবীর বলেন, গোমতীতে মাছ ধরার উৎসবটি আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য। এক সময় গোমতীতে বড় বোয়াল, বাগাড়, চিতল, কালিবাউশ, রুই কাতল পাওয়া যেত। যেগুলো নগরীর রাজগঞ্জ বাজারে বিক্রি হত। তবে সময়ের পরিক্রমায় কমেছে গোমতীর পানি ও মাছের আনাগোনা। এখন যৎসামান্য কিছু মাছ পাওয়া যায়। যদি গোমতীকে শাসন না করে পরিকল্পনা অনুযায়ী খনন করা যেত, তাহলে গোমতী তার আগের রুপ ফিরে পেত। জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হত।
যোগাযোগ করা হলে কুমিল্লা সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হাছান রফি রাজু জানান, প্রতি বছরই এই সময়টাতে কুমিল্লার নানা প্রান্তের সৌখিন মাছ শিকারীরা টিক্কারচর এলাকায় একত্রিত হয়ে মাছ শিকারে নামেন। এতে একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। তবে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না বলে জানতে পেরেছি।

  • ব্রাহ্মণপাড়া